আর্ক দুর্গ

আর্ক দুর্গ

আর্ক অব বুখারা খ্যাত বিশাল ঐতিহাসিক দূর্গ উজবেকিস্তানের বোখারা শহরে অবস্থিত। ৫ম শতাব্দিতে এর নির্মান এবং ব্যবহার করা হয়। একটি সামরিক দুর্গ হলেও একটি ছোটখাটো শহর হিসেবে টেকসই হবার জন্য যে যে সুবিধা দরকার তার সবই এখানে সন্নিবেশ করা হয়েছিলো যেমন। বিভিন্ন সময়ে যেসব শাসকরা বুখারার আশেপাশে শাসন করেছেন তাদের অনেকেই এখানে বসবাস করেছেন এবং ১৯২০ সালে রাশিয়ার অধীনে যাবার আগ পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিলো। বর্তমানে আর্ক দুর্গটি একটি পর্যটক আকর্ষণ । এর ইতিহাস সমৃদ্ধ একটি ছোট জাদুঘরও রয়েছে।

ইতিহাস
 
১৯০৭ সালের ছবিতে আর্ক দুর্গের প্রধান গেট।
 
দরবার হল

আর্ক দুর্গটি একটি পুরাতন কাঠামোর উপরে নির্মিত হয়েছিলো। বর্তমান স্তর থেকে প্রায় ২০ মিটার নিচে একটি ভিত্তি স্তর পাওয়া যায় যা থেকে ধারণা করা হয় এর পূর্বেও এখানে এ ধরনের একটি স্থাপনা বর্তমান ছিলো যা কালের বিবর্তনে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিলো।

নরশাখীর (আবু বকর মোহাম্মদ ইবনে জাফর, ৮৯৯-৯৬০) ইতিহাস গ্রন্থ হিস্ট্রি অব বুখারা তে প্রথম আর্ক দুর্গের ইতিহাস পাওয়া যায়। আবুবকর লিখেছিলেন বুখারার শাসক বিন্দু এই দুর্গ নির্মান করেন। কিন্তু অচিরেই এটা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। একাধিক বার এটা পুননির্মান করা হয়েছিলো এবং প্রতিবারই আবার হারিয়ে যাচ্ছিল। সর্বশেষ শাসক নির্মান করার সময় বিদগ্ধ ব্যক্তিরা তাকে একটি বিশেষ কৌশল অবলম্বনের পরামর্শ দেন। সম্পূর্ণ দুর্গের পরিসীমা ধরে সপ্তর্ষিমন্ডলের অনুসরনে সাতটি বিন্দু নির্দিস্ট করে নিয়ে তারপর এক বিন্দু থেকে অপর বিন্দু পর্যন্ত দেয়াল করা হয় এবং সাতটি বিন্দুতে বিশেষভাবে শক্তিশালী করা হয়। এরপর থেকে দুর্গটি আর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়নি।[১]

চেঙিস খানের সৈন্যরা যখন বুখারা আক্রমণ করে তখন শহরবাসী এই দুর্গে আশ্রয় নেয় তবে সেনাপতির নির্দেশে সৈন্যরা দুর্গ ধ্বসিয়ে দেয় এবং পুরোপুরি দখল নিয়ে নেয়। মধ্যযুগে রুদাকি, ফেরদৌসি, ইবনে সিনা, আল ফারাবী প্রমুখদের কাজে দুর্গের বর্ণনা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ওমর খৈয়ামও এর উল্লেখ করেন। এখানে একটি বড় গ্রন্থাগারও ছিলো যেটা দেখে ইবনে সিনা বলেছিলেন:

“ আমি এই গ্রন্থাগারে এমন সব বই পেয়েছি যা আমার আগে জানা ছিলোনা এবং এমনকি আমি জীবনে আর কখনো দেখিনি। এই বইগুলি পড়ে, প্রত্যেক বিজ্ঞানী এবং বিজ্ঞান সম্পর্কে জেনে আমার মনে হলো আমার অজ্ঞাতে জ্ঞানের বিশাল গভীরতায় ঢোকার এত বড় অনুপ্রেরণার দ্বার তৈরী হয়ে আছে তা আমি অনুমান করতে পারিনি। ”

সম্ভবত বুখারার কোন এক শাসকের হাতেই এই গ্রন্থাগারের ধ্বংস হয়। রাশিয়ার গৃহযুদ্ধ চলাকালীন লাল ফৌজের হাতে আর্ক দুর্গের বেশ ক্ষতি হয়। ১৯০২০ সালে বুখারার যুদ্ধে মিখাইল ফ্রাঞ্জির আদেশে বিমান থেকে ব্যাপক গোলবর্ষন করা হয়। দুর্গের একটা বড় অংশ ধুলিস্মাৎ হয়ে যায়। ভিন্ন একটা কথা প্রচলিত আছে যে বুখারার শেষ আমির আলিম খান আফগানিস্তানে পালিয়ে যাবার সময় নিজেই দুর্গকে ধ্বংস করার আদেশ দিয়ে যান।

"সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২০১৭-১২-০১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০৭-১৬ 
Photographies by:
Stomac - CC BY-SA 2.0 fr
Position
743
Rank
1435

নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন

Esta pregunta es para comprobar si usted es un visitante humano y prevenir envíos de spam automatizado.

নিরাপত্তা
492573681এই ক্রমটিতে ক্লিক/ট্যাপ করুন: :কোড

Google street view

কাছে কোথায় ঘুমাবে আর্ক দুর্গ ?

Booking.com
28 আজ পরিদর্শন, 314 গন্তব্য, 6.633 আগ্রহের বিষয়, 221.158 মোট পরিদর্শন.